Wednesday, January 28, 2015

আকাশ সিরিজ (নির্মলেন্দু গুন)

শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
ঐ আনন্দে কেটে যাবে সহস্র জীবন। 

 
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
অহংকারের মুছে যাবে সকল দীনতা। 

 
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
স্পর্শ সুখে লেখা হবে অজস্র কবিতা। 

 
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
শুধু একবার পেতে চাই অমৃত আস্বাদ। 

 
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
অমরত্ব বন্দী হবে হাতের মুঠোয়। 

 
শুধু একবার তোমাকে ছোঁব,
তারপর হবো ইতিহাস।

প্রার্থনা (অরুণ কুমার সরকার)

যদি মরে যাই
ফুল হয়ে যেন ঝরে যাই;
যে-ফুলের নেই কোনো ফল
যে-ফুলের গন্ধই সম্বল;
যে-গন্ধের আয়ূ এক দিন
উতরোল রাত্রিতে বিলীন;
যে রাত্রি তোমারই দখলে
আমার সর্বস্ব নিয়ে জ্বলে,
আমার সত্তাকে করে ছাই।
ফুল হয়ে যেন ঝরে যাই।

Saturday, January 24, 2015

জাতিস্মরের শীতকাহিনী (কবি - শ্রীজাত)

উলের গায়ে ভুলের কাঁটা
নকশা তোলো ফুলের মত
শীতদুপুরে ছড়িয়ে আছি
ধোঁয়ার মতোই ইতস্তত।
 


এসব পাড়ায় রাত নামে না
রোদ্দুরে দিন খুব জেহাদি
মনে পড়ার দায় কী তোমার?
স্মৃতি ভীষণ মিথ্যেবাদী।
 


যে খুব আদর করতে পারে
অবজ্ঞা তো তাকেই মানায়
দস্তানারা গল্প শোনে
সস্তা কোনো সরাইখানায়...
 


কেমন ছিল শীতের বেলা
তুষারপাতে ঠোঁটের নরম...
এসন নেহাত আগের জীবন
প্রেমিক কিন্তু জাতিস্মরও
 


ফেরাও তাকে উলের কাঁটায়
ঘেরাও করো নকশা দিয়ে
কেমন ধাঁধাঁ শীতের বাতাস
চলল বয়ে চোখ ধাঁধিয়ে...
 


চোখের নিচে অল্প কালি
বরফ জমে সড়কপিছু...
যখন কেবল খুঁজে বেড়ায়
চুমুর চেয়েও নোনতা কিছু...
 


দস্তানাকেই রাখছি হাতে
ফেলতে থাকো সব পুরনো
নতুন করেই চাইব তোমায়
যদি আমার গল্প শোনো...
 


ভুলে যাওয়ার খুব ভেতরেই
মনে পড়ার ছকটা চেনা।
বসন্তে ঠিক আসব ফিরে
এক মাঘে তো শীত যাবে না !

ভালো বাসি ?

আর কোনো দীর্ঘশ্বাস নেই... হাহাকার নেই, কারোর সঙ্গে পাল্লা দেবার জন্য তো জন্মাইনি। গর্বও নেই, অভিমানও নেই... শুধু বেঁচে থাকাটা সত্যি, গান সত্যি, প্রেম সত্যি, চোখ বুজবার আগে অব্দি নিজের কাছে নিজের অস্ত্বিত্ব সত্যি। ফুল বাসি, মালা বাসি, বিছানা বাসি যদি হয়, তবে কাজলও বাসি, কান্নাও বাসি, আর ভালোও বাসি হয়!! নাকচাবি খুলে হাতে দিয়ে যাব, আর সব শেষে চোখে কাজল পরিয়ে কপালে একটা চুমু রেখো দগ্ধ সংসার...


(Arijita Mukhopadhyay - https://www.facebook.com/arijitamumu posted this on her Facebook wall on January 24, 2015.)

Saturday, January 17, 2015

স্মৃতিবণ্টন (রুদ্র মহম্মদ শহীদুল্লাহ)

এই সব ব্যর্থতা গ্লানির দহন,
এগুলো আমার থাক
তুমি শুধু শুভ্রতাটুকু নিয়ে যাও
প্রত্যাশার শেফালিকা পারাবত ।



বিনিদ্র রাতের বাতাসে দ্বিধায় ভাসমান
আত্মবিনাশী সন্ধানে দুলে ওঠা নিরুদ্দেশ খেয়া
ক্লান্তির কাছে নুয়ে আসা একাকি নির্জন পাখি ,
এসব আমার থাক ।



তুমি এই বর্ষায় ধুয়ে যাওয়া স্বচ্ছ চোখ
হালকা হিমেল হাওয়ায় খোলা চৈত্রের সকাল
নিয়ে যাও ।



দহন আমার থাক তো্ার থাকুক শুধু বহন । 
গহন রাত্রির শোক চোখের কিনারে জ্বলুক
তুমি শুধু চোখের চাঁদে থেকে যাও নিসঙ্গতা ।



জন্মের ক্লেদে ভেসে যাওয়া জননী বাহুখান
আমার সংসারে থাকুক লোকের ঘৃণায়
তুমি শুধু ফসলে সাজিয়ে বুক ফিরে এসো
প্রাপ্যের উল্লাসে ।



পথ চলা আমার থাক তো্ার থাকুক শুধুই পথ । 
আকন্ঠ গ্লানিরা আমার বেড়ে উঠুক প্রিয়তম ক্ষত
তোমার থাকুক শুধু শেফালি- সকাল
বর্ষায় ধুয়ে যাওয়া ফসলিম চোখের সংসার ।

Friday, January 9, 2015

ঋণ (চৌধুরী কামরূল আহসান)

হে নারী,
তোমার কাছে বিশেষ প্রার্থনা আমার
এক রাত থোকে তুমি আমার কাছে
পালঙ্কে শুয়ে আমার পাশাপাশি,
দেহের সমস্ত উষ্ণতা ঢেলে দিও আমার শরীরে,
আড়াল করো আমাকে তোমার লজ্জা দিয়ে,
জানি, কোন নারী জীবনে রয়না চিরদিন,
এক জীবনে শুধতে হবে বহু নারীর ঋণ।

স্বীকার উক্তি (মুসলেহ উদ্দীন)

কতখানি ভালবাসি প্রশ্ন করেছিলে
সন্দিহান চোখে দুটি দ্বিধাহীন মেলে
ভালোবেসে যদি হয় মৃত্যু পরিণাম
জেনে রেখো তবু আমি ভালোবেসেছিলাম।

অনন্ত প্রেম (রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)

তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি
শত রূপে শত বার,
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।
চিরকাল ধরে মুগ্ধ হৃদয়
গাঁথিয়াছে গীতহার-
কত রূপ ধ'রে পরেছ গলায়,
নিয়েছ সে উপহার
জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।


যত শুনি সেই অতীত কাহিনী,
প্রাচীন প্রেমের ব্যথা,
অতিপুরাতন বিরহমিলন-কথা,
অসীম অতীতে চাহিতে চাহিতে
দেখা দেয় অবশেষে
কালের তিমির রজনী ভেদিয়া
তোমারি মুরতি এসে
চিরস্মৃতিময়ী ধ্রবতারকার বেশে।


আমরা দু’জনে ভাসিয়া এসেছি
যুগল প্রেমের স্রোতে
অনাদিকালের হৃদয় উৎস হতে।
আমরা দু’জনে করিয়া খেলা
কোটি প্রেমিকের মাঝে
বিরহবিধূর নয়নসলিলে
মিলনমধুর লাজে।
পুরাতন প্রেম নিত্যনতুন সাজে।


আজি সেই চিরদিবসের প্রেম
অবসান লভিয়াছে
রাশি রাশি হয়ে তোমার পায়ের কাছে।
নিখিলের সুখ, নিখিলের দুখ,
নিখিলপ্রানের প্রীতি
একটি প্রেমের মাঝারে মিশেছে-
সকল প্রেমের স্মৃতি,
সকল কালের সকল কবির গীতি।

যাত্রাভঙ্গ (নির্মলেন্দু গুন)

হাত বাড়িয়ে ছুঁই না তোকে
মন বাড়িয়ে ছুঁই,
দুইকে আমি এক করি না
এক কে করি দুই।



হেমের মাঝে শুই না যবে,
প্রেমের মাঝে শুই
তুই কেমন কর যাবি?
পা বাড়ালেই পায়ের ছায়া
আমাকেই তুই পাবি।



তবুও তুই বলিস যদি যাই,
দেখবি তোর সমুখে পথ নাই।



তখন আমি একটু ছোঁব
হাত বাড়িয়ে জড়াব তোর
বিদায় দুটি পায়ে,
তুই উঠবি আমার নায়ে,
আমার বৈতরণী নায়ে।



নায়ের মাঝে বসবো বটে,
না-এর মাঝে শোবো,
হাত দিয়েতো ছোঁব না মুখ
দুঃখ দিয়ে ছোঁব।

Monday, January 5, 2015

সেই গল্পটা (পূর্ণেন্দু পত্রী)

আমার সেই গল্পটা এখনো শেষ হয়নি।
শোনো।
পাহাড়টা, আগেই বলেছি
ভালোবেসেছিলো মেঘকে
আর মেঘ কি ভাবে শুকনো খটখটে পাহাড়টাকে
বানিয়ে তুলেছিল ছাব্বিশ বছরের ছোকরা
সে তো আগেই শুনেছো।



সেদিন ছিলো পাহাড়টার জন্মদিন।
পাহাড় মেঘকে বললে
– আজ তুমি লাল শাড়ি পরে আসবে।
মেঘ পাহাড়কে বললে
– আজ তোমাকে স্নান করিয়ে দেবো চন্দন জলে।



ভালোবাসলে নারীরা হয়ে যায় নরম নদী
পুরুষেরা জ্বলন্ত কাঠ।
সেইভাবেই মেঘ ছিল পাহাড়ের আলিঙ্গনের আগুনে
পাহাড় ছিলো মেঘের ঢেউ-জলে।
হঠাৎ,
আকাশ জুড়ে বেজে উঠলো ঝড়ের জগঝম্প
ঝাঁকড়া চুল উড়িয়ে ছিনতাই এর ভঙ্গিতে ছুটে এল
এক ঝাঁক হাওয়া
মেঘের আঁচলে টান মেরে বললে
– ওঠ্‌ ছুঁড়ি! তোর বিয়ে ।



এখনো শেষ হয়নি গল্পটা।
বজ্রের সঙ্গে মেঘের বিয়েটা হয়ে গেলো ঠিকই
কিন্তু পাহাড়কে সে কোনোদিন ভুলতে পারলনা।
বিশ্বাস না হয় তো চিরে দেখতে পারো
পাহাড়টার হাড়-পাঁজর,
ভিতরে থৈথৈ করছে
শত ঝর্ণার জল।

হঠাৎ ছুটি (কবীর সুমন)

অন্ধকারে দুজন একা, কিছুই আর যায় না দেখা
দুজন বসে থাকি…
কেবল-ফল্ট ঘটলো কিনা, দুজন আজ তাও জানি না
আসবে কাছে নাকি?


একটু কাছে আসতে পারো, হঠাৎ ছুটি আজ তোমারও
আর যা কিছু ভুলো
কথার আর কী দরকার, অনেকদিন পরে আবার
লোডশেডিং হলো।

নবধারাজলে (উৎপলকুমার বসু)

মন মানে না বৃষ্টি হলো এত
সমস্ত রাত ডুবো-নদীর পারে
আমি তোমার স্বপ্নে-পাওয়া আঙুল
স্পর্শ করি জলের অধিকারে।
 

এখন এক ঢেউ দোলানো ফুলে
ভাবনাহীন বৃত্ত ঘিরে রাখে-
স্রোতের মতো স্রোতস্বিনী তুমি
যা-কিছু টানো প্রবল দুর্বিপাকে



তাদের জয় শঙ্কাহীন এত,
মন মানে না সহজ কোনো জলে
চিরদিনের নদী চলুক, পাখি।
একটি নৌকো পারাবারের ছলে



স্পর্শ করে অন্য নানা ফুল
অন্য দেশ, অন্য কোনো রাজার,
তোমার গ্রামে, রেলব্রিজের তলে,
ভোরবেলার রৌদ্রে বসে বাজার।

दिल तो बच्चा है जी (by Gulzar)

ऐसी  उलझी  नज़र  उनसे  हटती  नहीं


दांत  से  रेशमी  डोर  कटती  नहीं
उम्र  कब  की  बरस  के  सुफैद हो  गई
कारी  बदरी  जवानी  की  छटती  नहीं


वल्ला  ये  धड़कन  बढ़ने  लगी  है
चेहरे  की  रंगत  उड़ने  लगी  है
डर  लगता  है   तनहा  सोने  में  जी


दिल  तो  बच्चा  है  जी
दिल  तो  बच्चा  है  जी
थोडा  कच्चा  है  जी
हाँ  दिल  तो  बच्चा  है  जी


ऐसी  उलझी  नज़र  उनसे  हटती  नहीं
दांत  से  रेशमी  डोर  कटती  नहीं
उम्र  कब  की  बरस  के  सुफैद  हो  गई
कारी  बदरी  जवानी  की   छटती  नहीं
रा  रा  रा ………


किस  को  पता  था  पहलू  में  रखा
दिल  ऐसा  बाज़ी  भी  होगा
हम  तो  हमेशा  समझते  थे  कोई
हम  जैसा  हाजी  ही  होगा
हाय  जोर  करें , कितना  शोर  करें
बे  वजह  बातों पे  , हैं  वें  गौर  करें
दिल  सा  कोई  कमीना  नहीं
कोई  तो  रोके , कोई  तो  टोके
इस  उम्र   में  अब  खाओगे  धोके
डर  लगता  है  इश्क  करने में  जी


दिल  तो  बच्चा  है  जी
दिल  तो  बच्चा  है  जी
थोडा  कच्चा  है  जी
हाँ  दिल  तो  बच्चा   है  जी


ऐसी  उदासी  बैठी है  दिल  पे
हंसने  से  घबरा  रहें  हैं
सारी  जवानी  कतरा  के  काटी
पीरी  में  टकरा   गये  हैं


दिल  धड़कता  है  तो , ऐसे  लगता  है  वो
आ  रहा  है  यहीं , देखता  है नहीं  वो
प्रेम  की  मारे  कटार  रे
तौबा  ये  लम्हे  कटते  नहीं  क्यूँ
आँखों  से  मेरी  हटते  नहीं  क्यूँ
डर  लगता  है  मुझसे  कहने  में  जी


दिल  तो  बच्चा  है  जी
दिल  तो  बच्चा   है  जी
थोडा  कच्चा  है  जी
हाँ  दिल  तो  बच्चा  है  जी