Tuesday, February 24, 2015

অহংকার (কবি: হেলাল হাফিজ)

বুকের সীমান্ত বন্ধ তুমিই করেছো
খুলে রেখেছিলাম অর্গল,
আমার যুগল চোখে ছিলো মানবিক খেলা
তুমি শুধু দেখেছো অনল।



তুমি এসেছিলে কাছে, দূরেও
গিয়েছো যেচে
ফ্রিজ শটে স্থির হয়ে আছি,
তুমি দিয়েছিলে কথা, অপারগতার ব্যথা
সব কিছু বুকে নিয়ে বাঁচি।



উথাল পাথাল করে সব কিছু ছুঁয়ে যাই
কোনো কিছু ছোঁয় না আমাকে,
তোলপাড় নিজে তুলে নিদারুণ
খেলাচ্ছলে
দিয়ে যাই বিজয় তোমাকে।

Monday, February 23, 2015

শুধু তোমার জন্য (কবি: নির্মলেন্দু গুণ)

কতবার যে আমি তোমোকে স্পর্শ করতে গিয়ে
গুটিয়ে নিয়েছি হাত-সে কথা ঈশ্বর জানেন।
তোমাকে ভালোবাসার কথা বলতে গিয়েও
কতবার যে আমি সে কথা বলিনি
সে কথা আমার ঈশ্বর জানেন।



তোমার হাতের মৃদু কড়ানাড়ার শব্দ শুনে জেগে উঠবার জন্য
দরোজার সঙ্গে চুম্বকের মতো আমি গেঁথে রেখেছিলাম
আমার কর্ণযুগল; তুমি এসে আমাকে ডেকে বলবেঃ

"এই ওঠো, আমি, আ…মি…।"
আর আমি এ-কী শুনলাম
এমত উল্লাসে নিজেকে নিক্ষেপ করবো তোমার উদ্দেশ্যে
কতবার যে এরকম একটি দৃশ্যের কথা আমি মনে মনে
কল্পনা করেছি, সে-কথা আমার ঈশ্বর জানেন।



আমার চুল পেকেছে তোমার জন্য,
আমার গায়ে জ্বর এসেছে তোমার জন্য,
আমার ঈশ্বর জানেন- আমার মৃত্যু হবে তোমার জন্য।
তারপর অনেকদিন পর একদিন তুমিও জানবে,
আমি জন্মেছিলাম তোমার জন্য। শুধু তোমার জন্য।

মনে থাকবে ? (কবি: আরণ্যক বসু)

পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?



বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;
সন্ধে হলে বসবো দু'জন।
একটা দুটো খসবে তারা
হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল গড়াবে,
কান্ত কবির গান গাইবে
তখন আমি চুপটি ক'রে দুচোখ ভ'রে থাকবো চেয়ে...
মনে থাকবে?



এই জন্মের দূরত্বটা পরের জন্মে চুকিয়ে দেব
এই জন্মের চুলের গন্ধ পরের জন্মে থাকে যেন
এই জন্মের মাতাল চাওয়া পরের জন্মে থাকে যেন
মনে থাকবে?



আমি হবো উড়নচন্ডি
এবং খানিক উস্কোখুস্কো
এই জন্মের পারিপাট্য সবার আগে ঘুচিয়ে দেব
তুমি কাঁদলে গভীর সুখে
এক নিমেষে সবটুকু জল শুষে নেব
মনে থাকবে?
 


পরের জন্মে কবি হবো
তোমায় নিয়ে হাজারখানেক গান বাঁধবো।
তোমার অমন ওষ্ঠ নিয়ে
নাকছাবি আর নূপুর নিয়ে
গান বানিয়ে__
মেলায় মেলায় বাউল হয়ে ঘুরে বেড়াবো...
মনে থাকবে?



আর যা কিছু হই বা না হই
পরের জন্মে তিতাস হবো
দোল মঞ্চের আবীর হবো
শিউলিতলার দুর্বো হবো
শরৎকালের আকাশ দেখার__
অনন্তনীল সকাল হবো;
এসব কিছু হই বা না হই
তোমার প্রথম পুরুষ হবো
মনে থাকবে?



পরের জন্মে তুমিও হবে
নীল পাহাড়ের পাগলা-ঝোরা
গাঁয়ের পোষাক ছুড়ে ফেলে
তৃপ্ত আমার অবগাহন।
সারা শরীর ভ'রে তোমার হীরকচূর্ণ ভালোবাসা।
তোমার জলধারা আমার অহংকারকে ছিনিয়ে নিল।
আমার অনেক কথা ছিল
এ জন্মে তা যায়না বলা
বুকে অনেক শব্দ ছিল__
সাজিয়ে গুছিয়ে তবুও ঠিক
কাব্য করে বলা গেল না!
এ জন্ম তো কেটেই গেল অসম্ভবের অসঙ্গতে
পরের জন্মে মানুষ হবো
তোমার ভালোবাসা পেলে
মানুষ হবোই
— মিলিয়ে নিও!


পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...
বলতে ভীষণ লজ্জা করছে
ভীষণ ভীষণ লজ্জা করছে
পরের জন্মে তোমায় নিয়ে...
মনে থাকবে।

Thursday, February 19, 2015

লোভী (কবি - পল্লবী ব্যানার্জি)

ঈর্ষা দাও জ্বালাময়ী কর্কট রোগের মতো
পরাক্রমী মনের শরীরে।



পরাজয়ের গ্লানি দাও
লক্ষ্যভ্রষ্ট তীরন্দাজের টঙ্কার যেমন।
 


হীনমন্যতা দাও
পুঁজ রক্ত দাও
ক্ষতের স্থায়িত্ব দাও ত্বকে।
 


স্থাবর মেদ দাও
বিস্বাদ বিরক্তি দাও
পরাধীনতার ভার দাও মণিবন্ধে।
 


জ্বরের প্রকোপ দাও
বলিরেখা দাও
মৃত্যুসুখ দাও ক্লান্ত হৃদয়ে।



আমাকে সেই সমস্ত যন্ত্রণার বোধ দাও,
যা আমি কোনোদিন দেব না তোমাকে।

Wednesday, February 18, 2015

'Til Death Do Us Part (Orkut থেকে পাওয়া একটা কবিতা)

My passion seeks no other,
Just the warmth of your embrace.
How I long to hold you tightly,
And touch your precious face.



My love for you forever
Will be engraved upon my heart,
And we will be together, Dear,
'Til death do us part.

কান্না প্রসঙ্গে দুটি কবিতা (কবি - নিশান চ্যাটার্জ্জী)


কিছু কান্না থাকে যেটা নদীর মত সরল.
কান্না কিছু থাকে যেটা পুকুর জলে ডুব!



কিছু কান্না থাকে যেটা ঘুমের সময় আসে,
কান্না কিছু থাকে যেটা জ্বালিয়ে গেল খুব!



নদীর মত কান্না
যাদের স্রোতের মত ঢেউ,
একুল ওকূল দুকুলপ্লাবী,
খবর রাখো কেউ?


*

খবর টবর রাখার সময় নেই,
সবাই এখন ব্যস্ত নিজের কাজে,
সবাই এখন চিন্তা ধরে রাখে,
চোখের কোণে কিম্বা ভুরুর ভাঁজে!



কিন্তু তবু কান্না আসে রোজ!
রাতের ঘুমে বালিশ ভিজে শেষ,
কেউ রাখেনা নদীর খবর তাই,
ঘুমের শেষে সবাই আছে বেশ!



তাই,


কান্না বাড়ে রোজ!
আর রাতের ঘুমে তাই,
আঁকড়ে ধরে বালিশ মুখে
কান্না চাপা চাই!!
 


****



এই এখানেই লিখেছিলাম সেদিন,
বালিশ চাপা কান্না ইতিহাস,
এই এখানেই লিখছি বসে ফের,
ওজনদাঁড়ি, ভারিক্কি প্রশ্বাস!



আছে বালিশ চাপা সেই,
তাই কান্না থেমে যায়,
রাত বাড়ছে যখন রোজ,
ঠিক রাত্রি বারোটায়!



রাত, বেড়েছে চুপচাপ,
শুধু একটা দুটো গাড়ি,
দেরী করেছে নিশ্চয়,
তবু ফিরছে ঠিকই বাড়ি!



চোখ অন্ধকারে সয়ে,
খোঁজে বালিশে, আশপাশে,
কিছু অশ্রুফোঁটার পরে,
ফের ক্লান্তি নেমে আসে!

Friday, February 13, 2015

প্রেম রয়ে যাবে (লেখক: শতদ্রু দাস)

যে প্রেম বসন্তে শুরু হয়ে শীতে শুকিয়ে যায় সেই প্রেমের কোনো পেডিগ্রী আছে নাকি?


প্রেম হবে ফের্মিনা ডাজার প্রতি ফ্লোরেন্তিনো আরিজার ভালবাসার মত। প্রেম আদি অকৃত্রিম রয়ে যাবে, চারপাশে বদলে যাবে সব কিছু।


যে রাস্তা গুলোয় হেঁটে হেঁটে প্রেম করতাম সেই রাস্তাগুলোই আর থাকবেনা, বাড়বে প্রস্থ, বসবে ফ্লাইওভার।


যে দোকানে চা খেতাম, রাজনৈতিক ক্ষমতার বদলাবদলিতে উঠে যাবে সেটাও, বসবে নতুন কেউ।


যে 'মনজিনিস'-এ খেতাম কেক বা প্যাটিস সেখানে হবে সি.সি.ডি।


যে সিনেমা হলে যেতাম সিনেমা দেখতে সেগুলো হয় মাল্টিপ্লেক্স নয়তো পোড়ো বাড়ি।


যেসব এস.টি.ডি. বুথ থেকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোন করেছি, মোবাইলের দাম কমে যাওয়ার ফলে প্রয়োজনীয়তা হারাবে আর বন্ধ হবে একে একে।


যে বাসে করে দেখা করতে যেতাম রোজ বিকেলে, সরকারের টিকিটের ভাড়া বাড়াতে না দেওয়ার একগুয়েমির কারণে উঠে যাবে তারা।


তারপর একে একে চলে যেতে থাকবেন সেই মানুষগুলো যারা আমাদের প্রেমের সাক্ষী ছিলেন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ভাবে। যারা থাকবেন তাদেরও স্মৃতি থেকে মুছে যাবো আমরা।


এরপরেও কিছু স্মৃতিচিহ্ন রয়ে যায়, যেমন বাড়ি ঘর। কিন্তু সময় ধীরে ধীরে বদলাবে তাকেও। পরিচিত মাঠগুলো তো অনেক আগেই গেছে, ফ্ল্যাট বাড়ি আর মল জায়গা করেছে সেখানে। পুরনো ফ্ল্যাটের জায়গায় নতুন নতুন ফ্ল্যাট। কিন্তু এক-দু'তলা বসত বাড়িগুলো একগুঁয়ে, অনেক দিন থাকে। তাও একসময় তারাও আর থাকবে না।


যে আন্ডার কনস্ট্রাকশন বাড়িটায় আমরা যেতাম নির্জনতা খুঁজতে সেই বাড়িটাও পুরনো হয়ে গিয়ে খসে পড়তে থাকবে পলেস্তারা।


আর সব শেষে মরে যেতে থাকবে সেই বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছটা। 


কিন্তু তবু প্রেম রয়ে যাবে। যখনই ইচ্ছে হবে, সমস্ত বদলে যাওয়ার ওপরেই ফিরিয়ে আনতে পারব আগের দিনগুলো। যে কল্পনাশক্তিতে আমি গোটা শহরকেই পিছিয়ে দিতে পারি অনেক অনেক বছর, সেই কল্পনাশক্তিতে আমি তাকেও ফেরাতে পারব না সে কি হয় নাকি ?




(Satadru Das - https://www.facebook.com/satadrudas2 posted this on his Facebook wall on February 13, 2015.)

Thursday, February 12, 2015

আমার লেখা দশম কবিতা (কবীর সুমন)

কী করব ভেবে পাচ্ছি না তাই লিখছি
“বালকবীরের বেশেই” দিল্লি জয়
“পথ চেয়ে আর কাল গুনে” তুমি জানলে
ফাল্গুনেই তো এইভাবে দেখা হয়।
 



রবীন্দ্রনাথ আমার রবীন্দ্রনাথ
এই তরুণের গায়ে শার্ট সোয়েটার
সাধারণ লোক, পরে না ইউনিফর্ম
ঠাণ্ডা লাগলে বড়জোর মাফ্লার।



শোনো শোনো, কবি, “তরুণ গলার গান”
অবাক হয়ো না এখনও অনেক বাকি
ধর্মান্ধতা ধ্বংস করবে যারা
তাদের বুকেই তোমার গানের পাখি।



অরবিন্দকে কেমন লাগছে বলো
অন্য মানুষ, রাজনীতিটিতি নয়
এ-জাগরণের ফাল্গুন বাঁচি চলো
কখনও কখনও গানও সত্যি হয়।






(Kabir Suman posted this on his Facebook wall on February 11, 2015 at about 9:30 in the evening.)

Thursday, February 5, 2015

New York Journal 24 (by Nishan Chatterjee)

তব লীলারসে চুবিয়ে খেয়েছি,
বিস্কুট ছিলো যতো,
যতো সঙ্কট, যত আলোছায়া,
সন্ধের খটোমটো



বৃথা অবসাদে, ঝুঁকে পড়ে যাওয়া,
গুল্মের ডালে ডালে,
আরোহী সকাল, অবরোহী মনে,
বিষাদের বৈকালে।



তব লীলারসে, মগজে ডাণ্ডা,
রাস্তার ধারে বরফে ঠাণ্ডা,
হৃদয়ের খোপে গোছা করে রাখা,
ছেঁড়া অনুভূতি যত,



যদি প্রাণ পায়, বাঁচি সে আশায়,
বাঁচি বন্ধ্যার মত।

তুমি সুন্দর তাই (লেখিকা: বহ্নিশিখা সরকার)

সুন্দর আর সৌন্দর্য। প্রশ্ন আসে, কে সুন্দর?? আর সৌন্দর্যের মাপকাঠিটাই বা কি...আমি অনেক ভেবেও সমীকরণ মেলাতে পারিনি যে ভালবাসার সাথে সৌন্দর্যের সম্পর্ক কোথায়। নেহাত আমি অঙ্কে কাঁচা বলেই হয়ত...তবু মাথায় ঘরে ১ টা কথা আচ্ছা আমরা কি কেবল সুন্দরকেই ভালোবাসি? নাকি যা বা যাকে ভালোবাসি সেই সুন্দর হয়ে যায়? গল্প বা কবিতায় যেসব প্রেমিক বা প্রেমিকাকে খুজে পেয়েছি তাদের বর্ণনাগুলো কেমন বিরক্তিকর গোছের সুন্দর।


            অমিত-লাবন্যের বর্ণনা হোক, বা মাধবীলতা বা অনিমেষ বা ময়ূরাক্ষী বা হিমু বা আরও যারা যারা...... এরা কেবলই সুন্দর। আচ্ছা এদেরকে এত সুন্দর করে কবি বা লেখক রচনা করলেন কেন? প্রেমে পরাবেন বলে... প্রেমটিকে খুব নিখুঁত বানাবেন বলে?...নাকি এই মানুষগুলোর মধ্যে প্রেম হয়ে গেলো বলেই এরা সুন্দর? দৃশ্য শোভন না হলে কি প্রেম জমে না ??


            বাঙালি নায়িকা চরিত্র, খুব ব্যতিক্রমী চরিত্রগুলি নয়...ব্যবসাসফল/বিখ্যাত নায়িকা চরিত্রগুলির বর্ণনা দেখে আমার নিজের গুঁটিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়েছে কতবার। আচ্ছা কেন বনলতা সেনের এক ঢাল কাল চুল, বড় বড় চোখ, সুন্দর দেহ...এসব নিয়ে আলোচনা হয়?...হতেই পারে আসলে বনলতা সেন এক গরীব কেরানির মেয়ে, চুলে তেল পরে না বহুকাল, রুক্ষ ্ত্বক, শুকনো গাল, অভাবের ছাপ স্পষ্ট, কেবল থাকার মধ্যে আছে বড় বড় একজোড়া চোখ......


            দেখনেওওালা তো বলে দিলো "যাহ্‌ এই তুই যদি বনলতা সেনের মতন সুন্দর হতিস, তোকে নিয়ে কাব্য করতুম"......" নাহ খুকি, তোমার দ্বারা এই চরিত্রটি হবে না, এখানে বনলতা সেনের মতন একটি মেয়ে চাই"..." নিজেকে বনলতা সেন ভাবিস না কি??"......অসুন্দর বনলতা কি জীবনানন্দের প্রেমে সুন্দর হয়ে উঠেছিলো নাকি নেহাত সুন্দর বলেই জীবনানন্দ বাবু ওনাকে নিয়ে কাব্যি করেছিলেন......জানেন কেবল ব্রহ্মা।


               মেয়ে মানুষ লেখিকাদের হাতে তৈরি বাজারচলতি কোনও উল্লেখযোগ্য পুরুষের রূপের বর্ণনা এমনকি ফ্যান্টাসিও নেই... মেয়েরা লক্ষ্য করে পুরুষ মানুষ দেখেনা নাকি কে জানে! অবিশ্যি আজও মেয়েরা বিয়ে করে না, মেয়েদের বিয়ে হয়...... থাক এর মধ্যে এসব feminist কথাবার্তা কইব না।


                পুরুষের হাতে তৈরি পুরুষমানুষ চরিত্রগুলো দেখলেই দেখি...প্রেমিকেরা দীর্ঘদেহি, তনুদেহ ঋজু, খামখেয়ালী বলছেন কবি বা লেখক আবার বলেই বলছেন আকর্ষণীয় চেহারা! মানে মোদ্দা কথা টল-দারক/ফেয়ার-হ্যান্ডসম হল প্রেমিকের ট্রেডমার্ক। এনারা প্রেমে পরেন, আর অদ্ভুত ভাবেই এনাদের প্রতি নায়িকারা আকৃষ্ট হন।


         যে ছেলেটা ফার্স্ট বেঞ্চে বসে, হরলিক্স কাঁচের চশমা পরে, উচ্চমাধ্যমিকে আর কলেজে অনেক অনেক নম্বর পায়......তার কি প্রেম হতে নেই নাকি?? নাকি কোনও এক কালে প্রেম টা হয়েছিল বলেই কবি/লেখকের হাতে এ অবিনাশ হয়ে ওঠে...


          বা ওই ছেলেটা গায়ের রঙ খুব কাল, মুখ ভর্তি পক্সের দাগ— ও কি ভালবাসেনি কোনোদিন? নাকি তাই ও হিমু...


          আচ্ছা ছোটোখাটো লাজুক ছেলেটা, মেয়েদের সাথে আলাপ করতে ভয় পেত...... কোনও মেয়েকি ওকে কোনোদিন মন দেয় নি? নাকি চুপি চুপি আরেকটি মুখচোরা অসুন্দর মেয়ে ভালবেসেছিল বলেই সে অমিত......


           হয়ত এরা ভালোবেসে সুন্দর......





(Banhisekha Sarkar - https://www.facebook.com/beepsha.sarkar posted this on her Facebook wall on February 5, 2015.)

Wednesday, February 4, 2015

কবিতা, তুমি (কবি - অনুসন্ধানী আবাহন)

বাঁধিনি কোন নতুন কাব্য অনেককাল
গাঁথিনি কোন নতুন ছন্দ, বহু, বহু দিন,
সেই শেষ কবে জানতে চেয়েছিলাম,
“তুমি কি তবে আমায় ছেড়ে চলেই গেলে, কবিতা?”
ভুলে গেছি সময়ের স্রোতে, আমিও তো কবি ছিলাম।
ভেবেছি, আশায় থাকতে হবে চিরটাকাল,
প্রত্যাশাতে গুনতে হবে দিন,
হারিয়ে খুঁজতে হবে, যা পেয়েছিলাম,
হাতের মুঠোয় আটকে রাখতে হবে, স্বত্বা, আত্মা,
হয়তো কবিতা এসে বলবে, “নাও কবি, ফিরিয়ে দিলাম।”



আজ, হঠাৎ কোথা থেকে এলে?
ঝড়ো হাওয়ার মতো এসে বললে, “কলম তুলে নাও,
আগের মতই দিব্যি হেসে খেলে,
লিখে ফেলো, যা কিছু লিখতে চাও।
তোমায় ছাড়িনি আমি, ভুলেছো আমায় তুমি,
অভিশাপের সেই দিনগুলো, কেন শুধু ভুলে যাও?
আমি যে তোমার অভিশাপ, কবি
অশ্রুবিন্দু, কৃষ্ণচূড়া, পাগলামি আর ছন্নছাড়া
ভুলেছে সবাই, ভুলেছে সবই,
অভিশাপ হয়ে রয়ে গেছি আমি, তোমার মনের ছবি।
সেই আমায় ভুলে গেলে?”



চুম্বনালিঙ্গনে মত্ত কবিতাকাল
রাগে-শৃঙ্গারে, ভুলি যে নিশি-সকাল
উপোষী মন, কি যে কখন
চাইছে, তোমার রুঢ় মনমন্থন
সইছে, তোমায় হৃদে আবাহন
গাইছে, আর চাতকতৃষায় চাইছে তোমার মনের আলিঙ্গন।
কাব্যপিয়াসী, স্বপ্নতিয়াসী, কল্পবিলাসী, অভিলাষে
মনের নদীতে, কাব্যজোয়ারে, দু’কূল ছাপানো বান আসে
ভেসে যাই আমি, তোমার মোহে, প্রেমে, দ্রোহে
সদলে একলা একাকী’র একাকীত্ব, ঘুচিয়ে আমি তোমার সাথে দ্বিত্ব
কাব্যসুখে আত্মহারা,
বাঁধনহারা, পাগলপারা, তৃপ্ত, আজ আমি এই গ্রহে।