Monday, December 10, 2018

রক্তকরবী (কবি - জয়দেব বসু)

তোমার কথা শুনেছি কতবার
কত যে লোক বলে তোমার নাম,
আমি ছিলাম নির্বাসিত দেশে
আমি কি আর তোমায় চিনতাম !

পুরাণে বলে, লোককথায় বলে —
আসবে তুমি, কখনো-কোনোদিন,
মুছিয়ে দেবে গেরস্থালি চোখ,
অনামিকায় ফোটাবে আশ্বিন।

পেরিয়ে গেছি মেঝেনদের দেশ,
পেরিয়ে গেছি কুষ্ঠে খশা গ্রাম,
জানো কি তুমি, অনেকে এখানেও
ফিসফিসিয়ে বলে তোমার নাম ?

পেরিয়ে গেছি দস্যুদের তাঁবু,
পেরিয়ে গেছি ভগ্ন বন্দর
সেখানে রোজ বালিতে দোহা লেখে
বিলাপরত দু'জন অন্ধ।

তাদের থেকে তোমার নাম করে
টুকে নিয়েছি লুপ্ত প্রার্থনা,
না-হলে ঐ হতভাগ্যদের
মনোবিকার কখনো সারত না।

পেরিয়ে গেছি নিশানরাঙা পথ,
কোথায় আছো, কীভাবে আছো তুমি ?
পায়ের নিচে দগ্ধ ধানখেত,
পায়ের নিচে শীতল মালভূমি...

চেরাগ হাতে নানান দেশে যারা
ঘুরে বেড়ায়, সাত-সুলুক রাখে,
তারা বলেছে, আমরা কেউ নই,
সেই মেয়েরা চিনতে পারে তাঁকে ;

যাদের হাত ফ্যাকাশে হয় ক্ষারে,
যাদের হাত চুলোতে স্যাঁকা হয়,
যাদের খুব কথা বলার সাধ —
কথা বলতে যাদের আরো ভয়...

তাদের সাথে যখন দেখা হল
তখন ভীতু দৃষ্টি অনুসারে
মানচিত্রে পথ বসিয়ে আমি
একছুট্টে তেরো-নদীর পারে।

মস্ত এক পাঁচিল পার হয়ে
পরের-পর দরজা ঠেলে-ঠেলে
খুঁজে পেলাম 
তোমাকে, নন্দিনী,
নিখোঁজ এই পাগলিদের সেলে।

Monday, June 15, 2015

Down By the Salley Gardens (by William Butler Yeats)

Down by the salley gardens
   my love and I did meet;
She passed the salley gardens
   with little snow-white feet.
She bid me take love easy,
   as the leaves grow on the tree;
But I, being young and foolish,
   with her would not agree.



In a field by the river
   my love and I did stand,
And on my leaning shoulder
   she laid her snow-white hand.
She bid me take life easy,
   as the grass grows on the weirs;
But I was young and foolish,
   and now am full of tears.  

Monday, April 27, 2015

দূরত্ব ও নৈকট্য (লেখক - অনুসন্ধানী আবাহন)

দূরত্ব এবং নৈকট্য বড়ই হেজিমনিক ব্যাপার স্যাপার। কোনটা যে দূরত্ব আর কোনটা যে নৈকট্য বুঝে ওঠাই যেন মুশকিল হয়ে যায় অনেকসময়। একই ঘরে পাশাপাশি নি:শ্বাসের দূরত্বে থেকেও শ্রেফ মানসিক সংযোগের অভাবে নৈকট্যবোধ বলে কিছুই থাকে না, বাড়তে থাকে দূরত্ব, শরীরটাও টানে না যেন শারীরিক সম্পর্কে। আবার, দূরে বহু দূরে থেকেও শুধু মানসিক সংযোগই নিয়ে আসে ছুঁয়ে ফেলার মত নিকটে, চাইলেই যেন চোখ বুঁজে জড়িয়ে ধরা যায়। অনুভুতি এবং আবেগের মিল অনুভব করাটাই বোধহয় আসল ক্যাটালিস্ট। বা হয়তো চিন্তার ওয়েভলেন্থে একই রকম অনুরণন।

আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখা, মেনে নিয়ে মানিয়ে চলার পার্সোনাল স্পেসবিহীন সম্পর্ক, হাজার চেষ্টা করেও নিজেকে বোঝাতে না পারা শুধুই দায়িত্ব এবং কর্তব্যের সম্পর্ক, কাছাকাছি রেখেও সম্পর্কের সেতুবন্ধন গড়তে পারে না। সম্পর্ক আরো জটিল হয়ে যায় যখন বছর ১০ এক ছাদের নিচে বাস করেও একজন আরেকজনকে চিনেই উঠতে পারে না, কম্প্রোমাইজ করতে গিয়ে নিজেকেই হারিয়ে ফেলা হয়। দূরত্ব, দূরত্ব, দূরত্ব, চুকে যায় তুচ্ছ কাগুজে সম্পর্কের বাঁধন।

আবার চিঠি, টেক্সট বা ভয়েস ওভারে গড়ে ওঠা অনুভবের সম্পর্ক, চুড়ান্ত মানসিক সংযোগ গড়ে ওঠা মিষ্টি সুখানুভুতি একটা সম্পর্ককে একটু একটু করে সাজিয়ে তোলে। হয়তো পরিণতিহীনতার পারিপার্শ্বিকতা থাকে, কিন্তু তবুও সময়ের হাতে সময়কে ছেড়ে দিয়ে কাছে আসা, কাছে, আরো আরো কাছে। মনের মাঝে হাত বাড়িয়ে মনকে ছোঁয়া। শেয়ার করা ভালোলাগা গানে আবেগ ছুঁয়ে দেয়া। হঠাৎ অস্ফুট কোন ফিসফিস কথায় বুকের মাঝে মোচড় দিয়ে ওঠা নৈকট্য। পাগলের মত একে অপরকে কাছে পেতে চাওয়া। এত, এত দূরে, তবু যেন সব সময় ঘিরে থেকে ছুঁয়ে দেয়ার নৈকট্য।

দূরত্ব এবং নৈকট্যের আপেক্ষিকতায় কি সকলেই হাবুডুবু খায়? কে জানে?

Sunday, April 19, 2015

তোমার (কবি - নিশান চ্যাটার্জ্জী)

তোমার চোখে প্রদীপ ছিলো

অনন্ত এক সাঁঝের তারায়
 

সলতে-জোড়া আলোক ছিলো ;
 

বাঁধভাঙা সেই ঝড়ের মতোই
 

দুকূলপ্লাবী বন্যা ছিলো



হৃদয় জুড়ে শুকনো পাতা

প্রদীপ তেলে ফুলকি লেগে

বিশ্ববরণ হোক দাবানল,

তোমার চোখে আগুন ছিলো।



তোমার ভুরুর ধনুক-ভাঁজে,

বিপদ কিছুর আদল ছিলো,

ভীষণ ভীরু চোখের পাতায়

কয়েক কুচি বাদল ছিলো



কয়েক কুচি আদর ছিলো ;

ঘোড়সওয়ারের

তীরন্দাজীর

হৃদয়ভেদী ছোবল ছিলো।



তোমার চোখে আগুন ছিলো




অনন্ত এক ঝাড়ের বাতি,

জলসাঘরে ঝলসালো চোখ

হাজার কোটি নূপুরধ্বনি

আয়না ভাঙার আওয়াজ যেমন

তেমন কিছু জানান দিলো,

দালান মেজে ফাটল ধরে

বৃষ্টি এলো বৃষ্টি এলো



সেতার-তারে মাখন গড়ায়,

আলাপ থেকে জোড় আর ঝালা,

প্রদীপ ছিলো কয়েককুচি

ধূসর কোনো আগুন জ্বালা



হৃদয় জুড়ে শুকনো পাতা,

ভ্রূপল্লবে ক্ষণিক বাদল ;

তোমার চোখে বাদল ছিলো,

কয়েক কুচি আদর ছিলো।

Friday, April 17, 2015

স্বাতীতারা (কবি - জীবনানন্দ দাশ)

স্বাতীতারা, কবে তোমায় দেখেছিলাম কলকাতাতে আমি

দশ-পনেরো বছর আগে; সময় তখন তোমার চুলে কালো

মেঘের মতন লুকিয়ে থেকে বিদ্যুৎ জ্বালাল

তোমার নিশিত নারীমুখের— জানো তো অন্তর্যামী।

তোমার মুখ; চারিদিকে অন্ধকারে জলের কোলাহল।

কোথাও কোনো বেলাভূমির নিয়ন্তা নেই— গভীর বাতাসে

তবুও সব রণক্লান্ত অবসন্ন নাবিক ফিরে আসে।

তারা যুবা, তারা মৃত; মৃত্যু অনেক পরিশ্রমের ফল।

সময় কোথাও নিবারিত হয় না, তবু, তোমার মুখের পথে

আজও তাকে থামিয়ে একা দাঁড়িয়ে আছ নারী

হয়তো ভোরে আমরা সবাই মানুষ ছিলাম, তারই

নিদর্শনের সূর্যবলয় আজকের এই অন্ধ জগতে।

চারিদিকে অলীক সাগর জ্যাসন ওডিসিয়ূস ফিনিশিয়

সার্থবাহের অধীর আলো ধর্মাশোকের নিজের তো নয়, আপতিত কাল

আমরা আজও বহন করে, সকল কঠিন সমুদ্রে প্রবাল

লুটে তোমার চোখের বিষাদ ভর্ত্সনা… প্রেম নিভিয়ে দিলাম প্রিয়।

Thursday, April 16, 2015

তোমায় আমি (কবি - জীবনানন্দ দাশ)

তোমায় আমি দেখেছিলাম বলে
তুমি আমার পদ্মপাতা হলে;
শিশিরকণার মতন শূন্যে ঘুরে
শুনেছিলাম পদ্মপত্র আছে অনেক দূরে,
খুঁজে খুঁজে পেলাম তাকে শেষে।


নদী সাগর কোথায় চলে বয়ে
পদ্মপাতায় জলের বিন্দু হয়ে
জানি না কিছু দেখি না কিছু আর
এতদিনে মিল হয়েছে তোমার আমার
পদ্মপাতার বুকের ভিতর এসে।


তোমায় ভালবেসেছি আমি, তাই
শিশির হয়ে থাকতে যে ভয় পাই,
তোমার কোলে জলের বিন্দু পেতে
চাই যে তোমার মধ্যে মিশে যেতে
শরীর যেমন মনের সঙ্গে মিশে।


জানি আমি তুমি রবে আমার হবে ক্ষয়
পদ্মপাতা একটি শুধু জলের বিন্দু নয়।
এই আছে, নেই ; এই আছে, নেই জীবন চঞ্চল;
তা তাকাতেই ফুরিয়ে যায় রে পদ্মপাতার জল
বুঝেছি আমি তোমায় ভালবেসে।